বিকিরণ কি?

শিহাব উদ্দিন আহমেদ | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭

তাপ সঞ্চালনের যে তিনটি উপায় রয়েছে তার একটি হচ্ছে বিকিরণ। জ্বলন্ত চুল্লীর পাশে দাঁড়িয়ে আমরা যে তাপ অনুভব করি তা চুল্লী থেকে বিকিরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসে। আবার সূর্য থেকে যে তাপ আমরা পাই তা-ও বিকিরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসে। বিকিরণ প্রক্রিয়ায় যে কেবল তাপের প্রবাহ ঘটে তা নয়, আলোও বিকিরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। আর তাই সূর্য থেকে আমরা তাপ এবং আলো দু’টোই পাই। কাজেই বিকিরণ হচ্ছে শূন্য মাধ্যমে শক্তির প্রবাহ। শক্তির এ প্রবাহ তরঙ্গ আকারে কিংবা কণা আকারে হতে পারে।

বিকিরণ প্রক্রিয়ায় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না

বিকিরণ প্রক্রিয়ায় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না বলেই সূর্য থেকে তাপ এবং আলো কোন মাধ্যম ছাড়াই পৃথিবীতে চলে আসতে পারে। বেতার তরঙ্গও এক ধরনের বিকিরণ এটিও মাধ্যম ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে যায়। আর তাই স্যাটেলাইট বা মহাকাশযান থেকে পাওয়া বেতার সংকেত গ্রহণ সম্ভব হয়। এদিকে চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকা সত্ত্বেও সেখানে নভোচারীরা বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে পারস্পরিক আলাপ সেরে নিতে পেরেছিলেন। বিকিরণের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন না হলেও মাধ্যমের উপস্থিতি বিকিরণের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে, গতি কমিয়ে দিতে পারে। যেমন: মাধ্যমের উপস্থিতিতে আলোর বেগ কমে যাওয়া কিংবা আলোর বেঁকে যাওয়া বা প্রতিসরণ।

radiation

তেজস্ক্রিয় বিকিরণ

আমরা অনেক সময়ই তেজস্ক্রিয় বিকিরণের কথা শুনি। বলা হয় অমুক জায়গায় তেজস্ক্রিয় বিকিরণ/তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে, জায়গাটি বিপদজনক হয়ে উঠেছে ইত্যাদি। আসলে সেগুলোও একধরনের বিকিরণ, পার্থক্য শুধু তরঙ্গদৈর্ঘ্যে। সব বিকিরণই ক্ষতিকর নয় আবার সব বিকিরণই নিরাপদ নয়। দৃশ্যমান আলো, আলট্রাভায়োলেট রশ্মি, ইনফ্রারেড রশ্মি, এক্স-রে, গামা রশ্মি, সবই বিকিরণের উদাহরণ।

তেজস্ক্রিয় বিকিরণের আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, একারণে এদের আয়নাইজিং রেডিয়েশন (ionizing radiation) বলা হয়। এধরনের বিকিরণ বেশি মাত্রায় জীবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিকিরণের বিপদ

রান্নাঘরের চুলা কিংবা বড় চুল্লীর পাশে দাঁড়িয়ে আমরা যে বিকিরণজনিত তাপ অনুভব করি তা বিশেষ ক্ষতিকারক নয়, আর সূর্যের আলোতেও অতিরিক্ত চলাফেরা না করলে ক্ষতির আশংকা নেই। কিন্তু তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ক্ষতিকারক। এক্স-রে সহ তেজস্ক্রিয়তার বিভিন্ন কৃত্রিম উৎস রয়েছে। আর পারমাণবিক চুল্লী এবং ইউরেনিয়াম খনির মত উৎস-তো রয়েছেই।

কসমিক রশ্মির মাধ্যমে মহাকাশ থেকেও তেজস্ক্রিয়তা পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে। এমনকি বায়ুমণ্ডলেও তেজস্ক্রিয় কণার উপস্থিতি রয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে পরিবেশের স্বাভাবিক তেজস্ক্রিয়তা জীবদেহ সামলে নিতে পারে। অতিরিক্ত মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা সামলানো সম্ভব হয় না আর তাই ক্যান্সারের মত রোগের আশঙ্কা তৈরি হয়। বিপদজনক ব্যাপার হচ্ছে ক্ষতিকারক তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা সাংঘাতিক বেশি না হলে মানুষ যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি বুঝতে পারে না, কিন্তু ঠিকই শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

Print Friendly, PDF & Email
  • আরও পড়ুন:

  • প্রশ্ন ও উত্তর: